Background Image

আমাদের সংবাদ

“মানাসিক একাডেমি” হজ্ব সংক্রান্ত বিধি-বিধান শিক্ষার প্রথম অনলাইন সংস্করণ

“মানাসিক একাডেমি” হজ্ব সংক্রান্ত বিধি-বিধান শিক্ষার প্রথম অনলাইন সংস্করণ

3:25 am Friday 5th Dhu al-Qi'dah 1438 H

একাডেমির নির্বাহী পরিচালক শাইখ ত্বলাল বিন আহমদ আল্-আক্বীল বলেন: সৌদিআরবের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্রকল্পসমূহের একটি “মানাসিক একাডেমি”। একি একটি শিক্ষা ও সচেতনতামূলক প্রকল্প। অনলাইনের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের কাছে হজ্ব, ওমরাহ্ ও যিয়ারতের বিধি-বিধান পৌছিঁয়ে দেওয়া এ একাডেমির মূল লক্ষ্য।

হজ্ব-ওমরার মোবারক সফরে মুসলিম উম্মাহকে বিশুদ্ধ পদ্ধতি শিক্ষা দিতে মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত প্রোগ্রামসমূহের একটি “মানাসিক একাডেমি”। শাইখ আক্বীল আরো বলেন: এটি একটি নতুন প্রকল্প। হজ্ব-ওমরার বিধি-বিধান সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক, বিশেষ করে এ ফ্রি সার্ভিস থেকে উপকৃত হতে যারা আগ্রহী তাদেরকে বিশ্বের আটটি ভাষায় এ একাডেমি শিক্ষা দিবে। এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং উপস্থাপনায় থাকবে হজ্ব-ওমরাহ্ ও যিয়ারত সংক্রান্ত একদল একাডেমিক বিশেষজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য দা‘ঈ।

আল্-আক্বীল আরো বলেন: ১৪৩৮ হিজরীর জুলকা‘দা মাসের প্রথম সপ্তাহে এ একাডেমির পথ চলা শুরু হবে। যেন চলতি মৌসুমে হজ্ব পালন করতে আসা হাজ্বীগণ এ সেবা থেকে উপকৃত হতে পারেন।

সৌদিআরবের ভিশন-২০৩০ বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে পবিত্র হারামাইনের সেবক বাদশা সালমান বিন আব্দুল আযীয এবং যুবরাজ আমীরের তত্বাবধানে এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন: একাডেমি প্রথম দিকে মৌলিক ভাষাসমূহে উপস্থাপন করবে, এরপর বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

উপদেষ্টা গুরুত্বারোপ করে বলেন: শিক্ষা ও তথ্য-প্র্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে এ একাডেমির ভিত রচিত হয়েছে এবং একদল বিশেষজ্ঞ কর্তব্যনিষ্ঠ দা‘ঈকে এ একাডেমির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছ্, যারা অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন, ধারাবাহিক পরিবর্তন, উন্নতি, বিভিন্নতা সৃষ্টি, সমন্বয়সাধন, প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্প ও শিক্ষা কারিকুলামের ব্যবহারে আবিস্কার ও সৃজনশীলতা আনতে বদ্ধ পরিকর, যাতে আধুনিক প্রযুক্তি ‍ও বিভিন্ন ভাষার সাহায্যে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিয়ে মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য বাস্তবায়িত হয়।

তিনি আরো বলেন: এ একাডেমির মাধ্যমে মন্ত্রণালয় একি প্রেরণা নিয়ে কার্য বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেছে এবং শিক্ষার এমন এক সহজ মাধ্যম খুঁজে নিয়েছে যাতে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ রুকন হজ্বের বিধি-বিধানের নির্ভরযোগ্য, সংক্ষিপ্ত, সহজ, বোধগম্য, দ্রুত এবং সুস্পষ্ট তথ্য সরবরাহ করা যায়। আর এটা পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন হবে যথন প্রোগ্রামগুলোকে আরো উন্নত, প্রযুক্তিতে আরো উত্তম এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমসমূহে সৃজনশীলতা সূচিত হবে।

একাডেমির আয়োজিত কার্যক্রমের মধ্যে থাকবে টক শো, ধারাবাহিক আসর এবং বিভিন্ন বিষয়ভি্ত্তক প্রোগ্রাম। আল্লাহ্’র মেহমানদের সেবায় সৌদি সরকারের বিশাল কর্ম পরিকল্পনার আওতায় এগুলো পরিচালিত হবে।

স্তরভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী “মানাসিক একাডেমি” ক্বুরআন-হাদীসের আলোকে সেবা প্রদান করে যাবে। এক্ষেত্রে একাডেমি মধ্য ও ন্যায়পন্থা, স্থান-কালের পবিত্রতা এবং ফরয-ওয়াজিব বিষয়সমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখবে।

একাডেমির উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে শাইখ ত্বলাল আল্-আক্বীল বলেন:

  • সালফে সালেহীনের দেখানো পথে হজ্ব, ওমরাহ্ ও যিয়ারতের বিধি-বিধান ব্যাখ্যা করা।
  • বিভিন্ন ভাষায় হজ্বের বিধি-বিধান উপস্থাপনা করতে আধুনিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার করা।
  • ইসলামের রুকনসমূহ, ঈমান, ইহসান, মূল্যবোধ, চরিত্র, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)’র জীবনী, উলূমুল ক্বুরআনের অর্থ ও তাৎপর্য রেডিও, টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় বিভিন্ন প্রোগ্রামের সাহায্যে ব্যাখ্যা ও উপস্থাপন করা।

তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন: এ একাডেমি কার্যকর এক শিক্ষা আসরে পরিণত হবে। হজ্ব, ওমরাহ্, যিয়ারতের বিধি-বিধান ও আক্বীদা ইত্যাদি সংক্রান্ত তথ্য ও জ্ঞান বিতরণে এর ভূমিকা হবে বিশাল।

তিনি আরো বলেন: বায়তুল্লাহ্’র হাজ্বীদের সাথে বিশাল যোগাযোগ নেটওয়ার্ক তৈরীর সাথে সাথে এ একাডেমি ফ্রি “মানাসিক অনলাইন সার্ভিস” এর মাধ্যমে সেবা প্রদান করে যাবে এবং একাডেমি আরবী, ইংরেজী, তুর্কী, ইন্দোনেশিয়ান, হাওসা, সাওয়াহিলী, উর্দু এবং বাংলা ভাষায় সচেতনতামূলক যোগাযোগ রক্ষা করে যাবে ফোন বা অন্য কোন স্মার্ট মাধ্যমে।